প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জনগণের রায় অস্বীকার করার পরিণতি ভালো হবে না, কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াত আমীর
||
মুহাম্মদ কাইসার হামিদ,কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ):গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে দেওয়া জনগণের রায় অস্বীকার করার পরিণতি ভালো হবে না বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক মো. রমজান আলী। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে তৎকালীন বিরোধীরা এই সনদের পক্ষে অবস্থান নিলেও ক্ষমতায় আসার পর তাদের অবস্থানে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে।বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার বাজরা বাসস্ট্যান্ডের আসাদ সুপার মার্কেটের নীচ তলায় স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামীর মাসব্যাপী দেশব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুলিয়ারচর উপজেলা জামায়াত এ সভার আয়োজন করে।অধ্যাপক রমজান আলী বলেন, "দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে জুলাই সনদের পক্ষে মতামত দিয়ে সংবিধান সংস্কারের স্পষ্ট রায় দিয়েছিল। কিন্তু সরকার এখন সেই রায়কে আমলে নিচ্ছে না। জনগণের স্পষ্ট রায়কে অস্বীকার করার পরিণাম কখনো ভালো হতে পারে না।"নির্বাচনের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থানের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপির পক্ষ থেকেও জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার গঠনের পর বিষয়টি বাস্তবায়নে তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে আসা জনগণের রায়ের সাথে স্পষ্ট অসংগতিপূর্ণ ও বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে জেলা জামায়াত আমীর বলেন, "রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থেই জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছিল। একজন দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত সরকারের যেকোনো জনকল্যাণমূলক কাজে যেমন সহযোগিতা করবে, তেমনই জনস্বার্থবিরোধী যেকোনো সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিবাদ জানাবে।"বক্তব্যে তিনি দেশের বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করেন। পাশাপাশি, একটি নির্দিষ্ট আইনকে ‘ইসলামবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে সংসদে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের জোরালো প্রতিবাদের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।এসময় কুলিয়ারচর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ রফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং নায়েবে আমীর মাওলানা মো. মাহবুবুর রহমান আবেদীর সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা জামায়াতের সহ-সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমান, বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা মেহেদী হাসান, কুলিয়ারচর পৌর শাখার সভাপতি হারুনউর রশীদ, রামদী ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. মাহতাব উদ্দিন, উছমানপুর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন, ছয়সূতী ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. কামরুল ইসলাম সজিব, গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন শাখার সেক্রেটারি মো. মিজানুর রহমান মিজান, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মুহাম্মদ নূরুল আলম এবং সৌদি প্রবাসী রুকন মোস্তফা কামাল সিরাজীসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীবৃন্দ।এরপর দুপুরে উপজেলার ডুমরাকান্দা বাজারের জনতা ক্লাবে সালুয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আয়োজনে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিয়ে দ্বিতীয় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সালুয়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ও উপজেলা সহ-সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে এতেও প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আমির মাওলানা মুহাম্মদ রফিকুর রহমান ও নায়েবে আমির মাওলানা মো. মাহবুবুর রহমান আবেদী।অনুষ্ঠানে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কুলিয়ারচর উপজেলা থেকে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা নায়েবে আমির মাওলানা মো. মাহবুবুর রহমান আবেদী এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা মশিউর রহমান মহসিনের নাম ঘোষণা করেন।এছাড়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি ইউনিয়নে জামায়াত সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন-গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন শাখার সেক্রেটারি মো. মিজানুর রহমান মিজান, উছমানপুর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন, ছয়সূতী ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক খাইরুদ্দিন ইসলাম তুহিন ও সালুয়া ইউনিয়নে সৌদি প্রবাসী রুকন মোস্তফা কামাল সিরাজী। দলীয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় রামদী ও ফরিদপুর ইউনিয়নের প্রার্থীর নাম পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. হাবিবুর রহমান।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত রক্তি নিউজ