ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ছাতকে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রবাসী ভাই মো. ইব্রাহিম আলী ও তার মা’সহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে মামলায় আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন অভিযুক্ত পরিবারের পক্ষ থেকে ওই মায়ের পক্ষে এক ভাই,
লিখিত বক্তব্যে ভাই সোলেমান জানান, তার ভাই মো. ইব্রাহিম আলী, পিতা মো. আছকির আলী, নোয়ারাই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বারকাহন এলাকার বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে ২০২২ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। পরবর্তীতে পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুরমাপাড়া আবাসিক এলাকার মো. তেরা মিয়ার মেয়ে মার্জানা বেগমের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার বিয়ে হয়।
অভিযোগকারী ভাইয়ের দাবি, বিয়ের প্রায় ১৫ দিন পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ শুরু হয়। ভাই বিদেশে অবস্থান করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ছেলের মোবাইল ফোনে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ, ব্যক্তিগত যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলায় বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। এসব বিষয়ে কিছু অডিও রেকর্ড তাদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রবাসে ছেলের উপার্জিত অর্থের একটি বড় অংশ তার ইচ্ছার বাইরে স্ত্রীর মায়ের বিকাশ নম্বরে পাঠানো হয়েছে। একপর্যায়ে পরিবারের বিভিন্ন মোবাইল নম্বর ব্লক করে দেওয়ায় ছেলের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ থেকেও তিনি বঞ্চিত হন বলে জানান।
বিরোধ মীমাংসায় স্থানীয় মুরব্বি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। পরবর্তীতে লিগ্যাল এইড অফিস, সুনামগঞ্জে ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখে ৭৮৭/২০২৬ প্রি-কেইস নম্বরে আবেদন করা হয় এবং বিষয়টি পরবর্তীতে নিষ্পত্তি করতে চাইলে তা মেনে নিতে রাজী হয়নি।
এরপর গত ৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সুনামগঞ্জের আমল গ্রহণকারী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি.আর মামলা নং-২৬৬/২০২৬ দায়ের করা হয়। ওই মামলায় প্রবাসী ইব্রাহিম আলী, তার মা এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যকে আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারী মায়ের আরও দাবি, মার্জানা বেগম বর্তমানে তার বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছেন এবং বিয়ের পর থেকে তাদের বাড়িতে বসবাস করেননি। ফলে তার বিরুদ্ধে পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর কথোপকথনে অশালীন ভাষা ব্যবহারের কিছু অডিও রেকর্ড থাকার দাবি করে সেগুলো প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের কথা জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কোনো প্রতিশোধ বা অন্যায় সুবিধা চান না; বরং উভয় পক্ষের বক্তব্য, নথিপত্র ও প্রমাণ যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন চান।
অসহায় ওই ভাইয়ের আকুতি, “আমার ভাই অপরাধী হলে আইন অনুযায়ী তার বিচার হোক। কিন্তু আমি যদি কোনো অপরাধ না করে থাকি, তাহলে শুধু ভাইয়ের ভাই হওয়ার কারণে যেন আমাকে ও পরিবারের নিরপরাধ সদস্যদের হয়রানির শিকার হতে না হয়।”
সাংবাদিকদের প্রতিও তিনি বিষয়টি একতরফাভাবে না দেখে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও আদালতের কাছে মামলাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ছাতকে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রবাসী ভাই মো. ইব্রাহিম আলী ও তার মা’সহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে মামলায় আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন অভিযুক্ত পরিবারের পক্ষ থেকে ওই মায়ের পক্ষে এক ভাই,
লিখিত বক্তব্যে ভাই সোলেমান জানান, তার ভাই মো. ইব্রাহিম আলী, পিতা মো. আছকির আলী, নোয়ারাই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বারকাহন এলাকার বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে ২০২২ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। পরবর্তীতে পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুরমাপাড়া আবাসিক এলাকার মো. তেরা মিয়ার মেয়ে মার্জানা বেগমের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার বিয়ে হয়।
অভিযোগকারী ভাইয়ের দাবি, বিয়ের প্রায় ১৫ দিন পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ শুরু হয়। ভাই বিদেশে অবস্থান করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ছেলের মোবাইল ফোনে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ, ব্যক্তিগত যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলায় বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। এসব বিষয়ে কিছু অডিও রেকর্ড তাদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রবাসে ছেলের উপার্জিত অর্থের একটি বড় অংশ তার ইচ্ছার বাইরে স্ত্রীর মায়ের বিকাশ নম্বরে পাঠানো হয়েছে। একপর্যায়ে পরিবারের বিভিন্ন মোবাইল নম্বর ব্লক করে দেওয়ায় ছেলের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ থেকেও তিনি বঞ্চিত হন বলে জানান।
বিরোধ মীমাংসায় স্থানীয় মুরব্বি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। পরবর্তীতে লিগ্যাল এইড অফিস, সুনামগঞ্জে ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখে ৭৮৭/২০২৬ প্রি-কেইস নম্বরে আবেদন করা হয় এবং বিষয়টি পরবর্তীতে নিষ্পত্তি করতে চাইলে তা মেনে নিতে রাজী হয়নি।
এরপর গত ৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সুনামগঞ্জের আমল গ্রহণকারী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি.আর মামলা নং-২৬৬/২০২৬ দায়ের করা হয়। ওই মামলায় প্রবাসী ইব্রাহিম আলী, তার মা এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যকে আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারী মায়ের আরও দাবি, মার্জানা বেগম বর্তমানে তার বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছেন এবং বিয়ের পর থেকে তাদের বাড়িতে বসবাস করেননি। ফলে তার বিরুদ্ধে পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর কথোপকথনে অশালীন ভাষা ব্যবহারের কিছু অডিও রেকর্ড থাকার দাবি করে সেগুলো প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের কথা জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কোনো প্রতিশোধ বা অন্যায় সুবিধা চান না; বরং উভয় পক্ষের বক্তব্য, নথিপত্র ও প্রমাণ যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন চান।
অসহায় ওই ভাইয়ের আকুতি, “আমার ভাই অপরাধী হলে আইন অনুযায়ী তার বিচার হোক। কিন্তু আমি যদি কোনো অপরাধ না করে থাকি, তাহলে শুধু ভাইয়ের ভাই হওয়ার কারণে যেন আমাকে ও পরিবারের নিরপরাধ সদস্যদের হয়রানির শিকার হতে না হয়।”
সাংবাদিকদের প্রতিও তিনি বিষয়টি একতরফাভাবে না দেখে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও আদালতের কাছে মামলাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন