আন্তর্জাতিক ফুটবলে আর দেখা যাবে না লিওনেল মেসিকে। সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে মেসি এক খোলা চিঠিতে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ‘ফাইনালের পর এতটা সময় পেরিয়ে গেছে। অনেক ভেবেচিন্তে আমি সবাইকে জানাতে চাই যে, আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব কষ্টের ছিল, এখনও হৃদয়ের গভীরে সেই কষ্ট রয়েছে। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি, এখনই সেই সময়। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, আমি সবসময় আমার সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেছি। শুধু গত কয়েক বছরে নয়, তারও অনেক আগে থেকে। সবসময় এই জার্সির জন্য লড়েছি, নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি—আপনাদের আনন্দ দিতে এবং ফুটবলের মাধ্যমে যেন আপনারা আর্জেন্টাইন হওয়ার জন্য গর্ববোধ করেন, সেই চেষ্টা করেছি। আর বেশি সময় বাকি নেই, একের পর এক অধ্যায় শেষ হয়ে আসছে, আর এটাও এমনই একটি অধ্যায়—যেটা আমাকে ভীষণ কষ্ট দিচ্ছে। আমি ভালোবাসি, ভালোবেসেছি এবং সারাজীবন ভালোবেসে যাব জাতীয় দলের হয়ে খেলাকে। আমি নিজেকে পুরোপুরি নিঃশেষ করে দিয়েছি। এখন আর দেওয়ার মতো কিছুই আমার অবশিষ্ট নেই। তার ওপর আমার পেছনে দারুণ কিছু তরুণ খেলোয়াড় আসছে, যারা জাতীয় দলে থাকার যোগ্য। গত ২০ বছর ধরে আপনারা যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। মাঠের ভেতর থেকে আপনাদের কণ্ঠ শুনতে আমি ভীষণ মিস করব। এখন আমি আপনাদেরই একজন হয়ে যাব—বাইরে থেকে সবসময় সমর্থন করব, পাশে থাকব। (ভালো সময়ে এবং খারাপ সময়ে, বিশেষ করে খারাপ সময়ে আরও বেশি।) আমার পরিবারের প্রতি ধন্যবাদ, সবসময় আমার পাশে থাকার জন্য এবং এই সুন্দর অথচ কঠিন যাত্রায় আমার সঙ্গে থাকার জন্য। যেসব কোচ, সতীর্থ এবং কর্মকর্তার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ। আমি সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছি অসংখ্য স্মৃতি এবং জীবনের কিছু অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। আমি এই শান্তি ও গর্ব নিয়ে বিদায় নিচ্ছি যে, আমার সতীর্থদের সঙ্গে মিলে আপনাদের এমন কিছু স্বপ্নের মুহূর্ত উপহার দিতে পেরেছি, যেগুলো আমরা সবাই কল্পনা করেছিলাম। আপনাদের সঙ্গে সেগুলো বেঁচে থাকা সত্যিই এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা ছিল। আমি আপনাদের ভালোবাসি! আমাকে আর্জেন্টাইন বানানোর জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। চলো, আর্জেন্টিনা!চলো আর্জেন্টিনা! *এই কথাগুলো আমি ২১ জুলাই, ফাইনালের দুই দিন পর লিখেছিলাম। আজ আমার বাবার সঙ্গে যা ঘটেছে, তার পর আমি আগের চেয়েও বেশি নিশ্চিত যে আমার সিদ্ধান্ত সঠিক।’
স্টাফ রিপোর্টার- সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগের মিছিল করার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে। মামলায় ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) মধ্যনগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শাহাজাহান মিয়া। তিনি উপজেলার কার্তিকপুর গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে। মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে মধ্যনগর উপজেলার উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের বাঙ্গালভিটা এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলায় আসামীদের নাম- এখলাছুর রহমান তারা মিয়া, আজিজুল হক, এমরান হোসেন বিপক, রাজন মিয়া, রাজন চন্দ্র, রোমান মিয়া, সাজিদ মিয়া, সুজন মিয়া, জুয়েল আখঞ্জী, সুজিত, শাহিন মিয়া, ইমন মিয়া, জিয়া উদ্দিন, মহিবুর রহমান, নজির হোসেন, আল আমিন, মুশাহিদ হোসেন রানু, হাসান মিয়া, জাবের আহমদ, শামীম আহমদ, সেলিম ভূঁইয়া, নজরুল ইসলাম, শাকিল আহমদ লিজান, জুনায়েদ মিয়া, কাদের পাশা, আলী হোসেন, শাহজাহান চৌধুরী, জাহাঙ্গীর মিয়া, ইকবাল হোসেন, সোহাগ মিয়া, রাসেল, ফারুক মিয়া, কবির মিয়া, সাজ্জাত, শাখাওয়াত হোসেন শিপন, আঙ্গুর মিয়া, এমরুল হাসান, মিয়া হোসেন, লিমন মিয়া, লিক্সন মিয়া, জাহেদ মিয়া, জোটন রায় জনি, আব্দুল আমিন, জিলানী, জাহেদ মিয়া, রাসেল আহমেদ, কবির মিয়া ও সজিবের নাম রয়েছে। এদিকে মামলায় তাহিরপুর উপজেলায় কর্মরত কালবেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক শওকত হাসান সৈকতের নাম রয়েছে । তিনি দাবি করেন, মিছিলের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলেও উপস্থিত ছিলেন না। তার অভিযোগ, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। মধ্যনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহাবুদ্দিন শাহিন বলেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী তার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিসুনামগঞ্জে ২৮ বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়ান (বিজিবি)র সদস্যসহ র্ট্রাস্কফোর্সের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে একটি কাভার্ডভ্যানসহ বিপুল পরিমান ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে বিজিবি। সোমবার ভোররাতে সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার শান্তিগঞ্জ এলাকা থেকে এসব ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হয়। দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ২৮ বিজিবি’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির। তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শান্তিগঞ্জ এলাকায় ট্রাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করে মালিকবিহীন অবস্থায় একটি কাভার্ড ভ্যানসহ ২৬৮৪ পিস বিভিন্ন প্রকার উন্নতমানের ভারতীয় শাড়ি জব্দ করা হয়েছে। যার আনুমানিক সিজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি ৫৮ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা। এদিকে সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধ বিজিবি সর্বদা তৎপর রয়েছে জানিয়ে আটককৃত ভারতীয় শাড়ি সুনামগঞ্জের শুল্ক কার্যালয়ে জমা করা হয়েছে বলেও জানান বিজিবি’র এই কর্মকর্তা।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকায় ‘ক্রাইম রিপোর্টার’ নিয়োগ