রক্তি নিউজ

অপরাধ

দালালদের খপ্পরে সুনামগঞ্জের মান্নান এখন ভারতের গুয়াহাটি রিফুজি ক্যাম্পে আটক

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
দালালদের খপ্পরে সুনামগঞ্জের মান্নান এখন ভারতের গুয়াহাটি রিফুজি ক্যাম্পে আটক
সুনামগঞ্জের মান্নান ভারতের রিফুজি ক্যাম্পে আটক

দালালদের খপ্পরে সুনামগঞ্জের মান্নান এখন ভারতের গুয়াহাটি রিফুজি ক্যাম্পে আটক

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের মান্নান মিয়া(২৮) নামে এক যুবককে ভারতের জম্মুকাশ্মির কয়লার কাজ পাইয়ে দিবার কথা বলে ২২ হাজার টাকার বিনিময়ে স্হানীয় দুই মানব পাচারকারি তাকে তাহিরপুরের বড়ছড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতের কাশ্মীরে রেখে দালালরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। মান্নান মিয়া সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের কাইয়ারগাও গ্রামের দিনমুজুর মোঃ আলী আকবর ও সখিনা খাতুনের ছেলে।

 স্থাণীয় ও মান্নানের পরিবার সূএে জানা যায় ২০২৫ সালের মে মাসে একই ইউনিয়নের  ইসলামপুর গ্রামের মানব পাচারাকারী আলামিন মান্নানের পিতামাতার সাথে ভারতের কাশ্মীরে কয়লা কুড়ানোর ভাল কাজ পাইয়ে দিবে বলে ২২ হাজার টাকায় কন্ট্রাক করে একই উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের নৈইগাং গ্রামের মৃতশাহাব উদ্দিনের ছেলে মানব পাচারকারী শাহ আলমের হাতে তুলে দেয়। শাহ আলম সহজ সরল মান্নান মিয়াকে নিয়ে ২০২৫ সালের মে মাসে সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া চেকপোষ্ট দিয়ে তাকে নিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে এই দালাল শাহ আলম মান্নানকে নিয়ে কাশ্মীরে যায়। সেখানে গিয়ে মান্নানকে রেখে পালিয়ে যায় দালাম শাহ আলম। মান্নান মিয়া না জানে ভাষা না আছে তার পকেটে টাকা পয়সা। সে নিরুপায় হয়ে কৌশলে কাশ্মীর থেকে ভারতের গুয়াহাটি হয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসার চেষ্টাকালে সেখানকার পুলিশ ও ভারতের সীমান্ত বাহিনী বি এস এফ এর সদস্যরা তাকে আটক করে জিঞ্জাসাবাদে জানতে পারে মানব পাচারকারী দালালরা তাকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে কাশ্মীরে এনে পালিয়ে গেছে। মান্নান মিয়া বর্তমানে ভারতের গুয়াহাটির কচুতলা রিফুজি ক্যাম্পে মানবেতর জূবন যাপন করছেন বলে জানা যায়।

উল্লেখ্যা ২০২৫ সালের মে মাসে দালালচক্রটি কাইয়ারগাও গ্রামের বিল্লাল নামে আরো একটি যুবককে মান্নান মিয়ার সাথে কাশ্মীরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সুনামগঞ্জের বনগাও এলাকার মালিক মিয়ার মাধ্যমে বিল্লালকে দালাল ধরে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশে আনা হয়। এদিকে মান্নানের পিতা দিনমুজুর হওয়ায় টাকা পয়সা না থাকায় তার ছেলেকে ভারত থেকে আনতে পারছেন না।

এ ব্যাপারে মান্নানের পিতা আলী আকবর  ও মা সখিনা খাতুন কান্নাজড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের জানান,আমাদের কাইয়ারগাও গ্রামের আলামিন ও রঙ্গারচর ইউপির নৈইগাং গ্রামের শাহ আলম এই দুই দালাল মিলে আমার সহজ সরল ছেলে মান্নানকে জীবন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২২ হাজার টাকার বিনিময়ে ভারতের কাশ্মীরে নিয়ে তাকে রেখে পালিয়ে যায়। তিনি সরকার ও প্রশাসনের নিকট তার ছেলেকে গুয়াহাটি থেকে ফেরত আনার মাধ্যমে দুই  দালালকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ ব্যাপারে  মানব পাচারকারি আলামিন ও শাহ আলমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও ফোনটি বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রতন শেখ পিপিএম জানান, যে সমস্ত মানব পাচারকারী দালালরা মান্নান মিয়াকে ভারতে পাচার করেছে মান্নানের অভিভাবকরা দালাল আইনে বিঞ্জ আদালতে একটি মামলা করার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে বিঞ্জ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্হা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

আপনার মতামত লিখুন

রক্তি নিউজ

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬


দালালদের খপ্পরে সুনামগঞ্জের মান্নান এখন ভারতের গুয়াহাটি রিফুজি ক্যাম্পে আটক

প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দালালদের খপ্পরে সুনামগঞ্জের মান্নান এখন ভারতের গুয়াহাটি রিফুজি ক্যাম্পে আটক

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের মান্নান মিয়া(২৮) নামে এক যুবককে ভারতের জম্মুকাশ্মির কয়লার কাজ পাইয়ে দিবার কথা বলে ২২ হাজার টাকার বিনিময়ে স্হানীয় দুই মানব পাচারকারি তাকে তাহিরপুরের বড়ছড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতের কাশ্মীরে রেখে দালালরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। মান্নান মিয়া সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের কাইয়ারগাও গ্রামের দিনমুজুর মোঃ আলী আকবর ও সখিনা খাতুনের ছেলে।

 স্থাণীয় ও মান্নানের পরিবার সূএে জানা যায় ২০২৫ সালের মে মাসে একই ইউনিয়নের  ইসলামপুর গ্রামের মানব পাচারাকারী আলামিন মান্নানের পিতামাতার সাথে ভারতের কাশ্মীরে কয়লা কুড়ানোর ভাল কাজ পাইয়ে দিবে বলে ২২ হাজার টাকায় কন্ট্রাক করে একই উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের নৈইগাং গ্রামের মৃতশাহাব উদ্দিনের ছেলে মানব পাচারকারী শাহ আলমের হাতে তুলে দেয়। শাহ আলম সহজ সরল মান্নান মিয়াকে নিয়ে ২০২৫ সালের মে মাসে সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া চেকপোষ্ট দিয়ে তাকে নিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে এই দালাল শাহ আলম মান্নানকে নিয়ে কাশ্মীরে যায়। সেখানে গিয়ে মান্নানকে রেখে পালিয়ে যায় দালাম শাহ আলম। মান্নান মিয়া না জানে ভাষা না আছে তার পকেটে টাকা পয়সা। সে নিরুপায় হয়ে কৌশলে কাশ্মীর থেকে ভারতের গুয়াহাটি হয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসার চেষ্টাকালে সেখানকার পুলিশ ও ভারতের সীমান্ত বাহিনী বি এস এফ এর সদস্যরা তাকে আটক করে জিঞ্জাসাবাদে জানতে পারে মানব পাচারকারী দালালরা তাকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে কাশ্মীরে এনে পালিয়ে গেছে। মান্নান মিয়া বর্তমানে ভারতের গুয়াহাটির কচুতলা রিফুজি ক্যাম্পে মানবেতর জূবন যাপন করছেন বলে জানা যায়।

উল্লেখ্যা ২০২৫ সালের মে মাসে দালালচক্রটি কাইয়ারগাও গ্রামের বিল্লাল নামে আরো একটি যুবককে মান্নান মিয়ার সাথে কাশ্মীরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সুনামগঞ্জের বনগাও এলাকার মালিক মিয়ার মাধ্যমে বিল্লালকে দালাল ধরে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশে আনা হয়। এদিকে মান্নানের পিতা দিনমুজুর হওয়ায় টাকা পয়সা না থাকায় তার ছেলেকে ভারত থেকে আনতে পারছেন না।

এ ব্যাপারে মান্নানের পিতা আলী আকবর  ও মা সখিনা খাতুন কান্নাজড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের জানান,আমাদের কাইয়ারগাও গ্রামের আলামিন ও রঙ্গারচর ইউপির নৈইগাং গ্রামের শাহ আলম এই দুই দালাল মিলে আমার সহজ সরল ছেলে মান্নানকে জীবন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২২ হাজার টাকার বিনিময়ে ভারতের কাশ্মীরে নিয়ে তাকে রেখে পালিয়ে যায়। তিনি সরকার ও প্রশাসনের নিকট তার ছেলেকে গুয়াহাটি থেকে ফেরত আনার মাধ্যমে দুই  দালালকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ ব্যাপারে  মানব পাচারকারি আলামিন ও শাহ আলমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও ফোনটি বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রতন শেখ পিপিএম জানান, যে সমস্ত মানব পাচারকারী দালালরা মান্নান মিয়াকে ভারতে পাচার করেছে মান্নানের অভিভাবকরা দালাল আইনে বিঞ্জ আদালতে একটি মামলা করার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে বিঞ্জ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্হা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।


রক্তি নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. হাবিবুর রহমান।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত রক্তি নিউজ