রক্তি নিউজ

সারাদেশ

হুমকিতে বন ও জনস্বাস্থ্য

ছাতকে ২শ অবৈধ পাজুতে মাসে পুড়ছে ১৪শ টন কাঠ

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
ছাতকে ২শ অবৈধ পাজুতে মাসে পুড়ছে ১৪শ টন কাঠ

ফজল উদ্দিন,ছাতক প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের ছাতকে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই গড়ে ওঠা প্রায় ২০০টি কাঠজ্বালিত পাজু (চুন তৈরির চুল্লি) প্রতি মাসে প্রায় ১,৪০০ টন জ্বালানি কাঠ পোড়াচ্ছে। এতে জ্বালানি কাঠের সংকট, বন উজাড়ের আশঙ্কা এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় চুনাপাথর ও চুনশিল্পের জন্য পরিচিত ছাতকে গত কয়েক মাসে সুরমা নদীর দুই তীর, ছাতক–গোবিন্দগঞ্জ সড়কের দুই পাশ, বৌলা, তাতিকোনা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে এসব পাজু। আগে খড় বা ছন দিয়ে চুনাপাথর পোড়ানো হলেও পরে ব্যবসাটি নারায়ণগঞ্জে গ্যাসনির্ভর হয়ে যায়। সম্প্রতি সেখানে উৎপাদন কমে যাওয়ায় চুনের দাম বেড়ে গেলে ছাতকে আবারও অস্থায়ী পাজুর বিস্তার ঘটে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, প্রতিটি পাজুতে মাসে দুই দফা চুনাপাথর পোড়ানো হয় এবং প্রতিটি চুল্লিতে গড়ে ৭ টন লাকড়ি লাগে। সেই হিসাবে ২০০টি পাজুতে মাসে প্রায় ১,৪০০ টন কাঠ জ্বালানো হচ্ছে।

এতে স্থানীয় বাজারে লাকড়ির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। আগে ১২০ টাকায় বিক্রি হওয়া লাকড়ি এখন ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন ২০–৩০টি ট্রাক ও পিকআপে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা থেকে জ্বালানি কাঠ ছাতকে আনা হচ্ছে।

পাজু থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, চুনের গুঁড়া ও দুর্গন্ধে আশপাশের আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। শ্রমিকদের জন্যও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুসরাত জাহান বলেন, শিল্পকারখানার কারণে আগে থেকেই এ উপজেলায় পরিবেশজনিত রোগীর সংখ্যা বেশি ছিল; গত কয়েক মাসে তা আরও বেড়েছে।

পাজু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সালেক মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম পরিবেশের কিছু ক্ষতির কথা স্বীকার করে বলেন, এটি ছাতকের ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা। ছাড়পত্র দিয়ে বৈধতার আওতায় এনে রাজস্ব আদায় করলে সরকার ও ব্যবসায়ী—উভয়ই লাভবান হবে।

ছাতক বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা কেবিএম ফেরদুস জানান, লোকবল সংকটের কারণে অভিযান পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সুনামগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মহাইমিনুল হক বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। ইতোমধ্যে নোটিশ ও জরিমানা করা হয়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহ বন্ধে বন বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে অবৈধ পাজু বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহি উদ্দিন বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও পাজু মালিকদের নিয়ে শিগগিরই বৈঠক করা হবে। অনুমোদন ছাড়া কীভাবে এসব চুল্লি চলছে, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

রক্তি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬


ছাতকে ২শ অবৈধ পাজুতে মাসে পুড়ছে ১৪শ টন কাঠ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ফজল উদ্দিন,ছাতক প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের ছাতকে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই গড়ে ওঠা প্রায় ২০০টি কাঠজ্বালিত পাজু (চুন তৈরির চুল্লি) প্রতি মাসে প্রায় ১,৪০০ টন জ্বালানি কাঠ পোড়াচ্ছে। এতে জ্বালানি কাঠের সংকট, বন উজাড়ের আশঙ্কা এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় চুনাপাথর ও চুনশিল্পের জন্য পরিচিত ছাতকে গত কয়েক মাসে সুরমা নদীর দুই তীর, ছাতক–গোবিন্দগঞ্জ সড়কের দুই পাশ, বৌলা, তাতিকোনা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে এসব পাজু। আগে খড় বা ছন দিয়ে চুনাপাথর পোড়ানো হলেও পরে ব্যবসাটি নারায়ণগঞ্জে গ্যাসনির্ভর হয়ে যায়। সম্প্রতি সেখানে উৎপাদন কমে যাওয়ায় চুনের দাম বেড়ে গেলে ছাতকে আবারও অস্থায়ী পাজুর বিস্তার ঘটে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, প্রতিটি পাজুতে মাসে দুই দফা চুনাপাথর পোড়ানো হয় এবং প্রতিটি চুল্লিতে গড়ে ৭ টন লাকড়ি লাগে। সেই হিসাবে ২০০টি পাজুতে মাসে প্রায় ১,৪০০ টন কাঠ জ্বালানো হচ্ছে।

এতে স্থানীয় বাজারে লাকড়ির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। আগে ১২০ টাকায় বিক্রি হওয়া লাকড়ি এখন ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন ২০–৩০টি ট্রাক ও পিকআপে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা থেকে জ্বালানি কাঠ ছাতকে আনা হচ্ছে।

পাজু থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, চুনের গুঁড়া ও দুর্গন্ধে আশপাশের আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। শ্রমিকদের জন্যও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুসরাত জাহান বলেন, শিল্পকারখানার কারণে আগে থেকেই এ উপজেলায় পরিবেশজনিত রোগীর সংখ্যা বেশি ছিল; গত কয়েক মাসে তা আরও বেড়েছে।

পাজু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সালেক মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম পরিবেশের কিছু ক্ষতির কথা স্বীকার করে বলেন, এটি ছাতকের ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা। ছাড়পত্র দিয়ে বৈধতার আওতায় এনে রাজস্ব আদায় করলে সরকার ও ব্যবসায়ী—উভয়ই লাভবান হবে।

ছাতক বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা কেবিএম ফেরদুস জানান, লোকবল সংকটের কারণে অভিযান পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সুনামগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মহাইমিনুল হক বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। ইতোমধ্যে নোটিশ ও জরিমানা করা হয়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহ বন্ধে বন বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে অবৈধ পাজু বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহি উদ্দিন বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও পাজু মালিকদের নিয়ে শিগগিরই বৈঠক করা হবে। অনুমোদন ছাড়া কীভাবে এসব চুল্লি চলছে, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


রক্তি নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. হাবিবুর রহমান।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত রক্তি নিউজ