রক্তি নিউজ

সারাদেশ

বিচার ও নিরাপত্তা চেয়ে ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

তাহিরপুরে দুই দফা হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট

প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
তাহিরপুরে দুই দফা  হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট
তাহিরপুরে সংবাদ সম্মেলন-ছবি রক্তি নিউজ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : শফিকুল ইসলাম শফিক

তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দুই দফা হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার, শাস্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

শুক্রবার দুপুরে উপজেলার বাদাঘাট বাজারের বাদামপট্টি এলাকায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী রুমা আক্তার। তিনি বলেন, উপজেলার ১নং শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট গ্রামে গত ১৫ আগস্ট শিশুদের ফুটবল খেলা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও সংঘর্ষ হয়। এরপর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে।

এর একদিন পর ১৬ আগস্ট একই গ্রামের রান মিয়া ও আলতাবের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আব্দুর নুর ও তার স্বজনদের ৮-৯টি বসতবাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রুমা আক্তারের দাবি, হামলার সময় বাড়ির লোকজন জীবন বাঁচাতে পালিয়ে যায়। ওই সুযোগে হামলাকারীরা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে ধান, গরু, নৌকা, মোটরসাইকেল, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও ইলেকট্রনিক পণ্যসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় রুমা আক্তার বাদী হয়ে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে সুনামগঞ্জের দ্রুত বিচার আদালতে মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মামলা হওয়ার পরও ১৭ আগস্ট একই দল ফের হামলা চালায়। এসময় আব্দুর নুরের অন্যান্য স্বজনদের বাড়ির দরজা ভেঙে প্রবেশ করে টিনের বেড়া, শোকেস ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। শোকেসের তালা ভেঙে প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণ, ৬ ভরি রুপা, নগদ ৮০ হাজার টাকা, ১০০ মণ ধান, দুটি ফ্রিজ, তিনটি ষাঁড়, চারটি গাভী, ধান ভাঙানোর মেশিন ও পাওয়ার টিলার লুট করে নেয় দুর্বৃত্তরা।

বাধা দিতে গেলে তামান্না বেগমকে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় আছমা খাতুন ১৭ আগস্ট তাহিরপুর থানায় ২২ জনের নাম উল্লেখ ও ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে ট্যাকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রফিক আহমদ বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন

রক্তি নিউজ

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬


তাহিরপুরে দুই দফা হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : শফিকুল ইসলাম শফিক

তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দুই দফা হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার, শাস্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

শুক্রবার দুপুরে উপজেলার বাদাঘাট বাজারের বাদামপট্টি এলাকায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী রুমা আক্তার। তিনি বলেন, উপজেলার ১নং শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট গ্রামে গত ১৫ আগস্ট শিশুদের ফুটবল খেলা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও সংঘর্ষ হয়। এরপর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে।

এর একদিন পর ১৬ আগস্ট একই গ্রামের রান মিয়া ও আলতাবের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আব্দুর নুর ও তার স্বজনদের ৮-৯টি বসতবাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রুমা আক্তারের দাবি, হামলার সময় বাড়ির লোকজন জীবন বাঁচাতে পালিয়ে যায়। ওই সুযোগে হামলাকারীরা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে ধান, গরু, নৌকা, মোটরসাইকেল, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও ইলেকট্রনিক পণ্যসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় রুমা আক্তার বাদী হয়ে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে সুনামগঞ্জের দ্রুত বিচার আদালতে মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মামলা হওয়ার পরও ১৭ আগস্ট একই দল ফের হামলা চালায়। এসময় আব্দুর নুরের অন্যান্য স্বজনদের বাড়ির দরজা ভেঙে প্রবেশ করে টিনের বেড়া, শোকেস ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। শোকেসের তালা ভেঙে প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণ, ৬ ভরি রুপা, নগদ ৮০ হাজার টাকা, ১০০ মণ ধান, দুটি ফ্রিজ, তিনটি ষাঁড়, চারটি গাভী, ধান ভাঙানোর মেশিন ও পাওয়ার টিলার লুট করে নেয় দুর্বৃত্তরা।

বাধা দিতে গেলে তামান্না বেগমকে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় আছমা খাতুন ১৭ আগস্ট তাহিরপুর থানায় ২২ জনের নাম উল্লেখ ও ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে ট্যাকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রফিক আহমদ বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


রক্তি নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. হাবিবুর রহমান।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত রক্তি নিউজ