নিভৃতচারী গীতিকারের সুর সাধনা
"আসিয়া ভব কূলে শিশা কিনলাম হীরা ফেলে-
আমার মত কে আর আছে বোকা দোকানদার-
দেহতত্ত্ব আর বিরহ জীবনের দর্শনে আশরাফুল আলমের গানের জগৎ
হাবিবুর রহমানঃ-
গভীর রাত। চারদিকে নিস্তব্ধতা। দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে যখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমে বিভোর, তখন এক মানুষ নিভৃতে বসেন সাদা কাগজ আর কলম নিয়ে। শব্দের পর শব্দ জুড়ে জন্ম নেয় নতুন গান। কখনও দেহতত্ত্ব, কখনও আধ্যাত্মিকতার অন্বেষণ, কখনও প্রেম-বিরহের হাহাকার, আবার কখনও জীবনের কঠিন বাস্তবতা। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে নিজের ভেতরের অনুভূতিকে গানে রূপ দিচ্ছেন সুনামগঞ্জের নিভৃতচারী গীতিকার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম।
প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকলেও তাঁর সৃষ্টির ভাণ্ডার সমৃদ্ধ। ইতোমধ্যে তিনি প্রায় হাজারখানেক গান রচনা করেছেন। সম্প্রতি তাঁর লেখা একাধিক গান বাংলাদেশ বেতার, সিলেট কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হওয়ায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এই গীতিকার।
বেতারে প্রচারিত গানগুলোর মধ্যে ‘গোলাতে ধান রাখিয়া আমায় রাখলো পাহারাদার, দিনে রাইতে বস্তা কাটে সয়না অত্যাচার’ গানটি যেমন মানবজীবনের নশ্বরতা ও আত্মার চিরন্তন সত্যকে রূপকের মাধ্যমে তুলে ধরে, তেমনি ‘নিশি গেল আশার আসে, নিদ্রা নাই মোর নয়নে, কেমনে বাঁচি বন্ধুরে তুই বিহনে’ গানটি বিরহের গভীর আর্তিকে হৃদয়স্পর্শী ভাষায় প্রকাশ করে।
"আসিয়া ভবকূলে শিশা কিনলাম হীরা ফেলে-আমার মত কে আর আছে বোকা দোকানদার,আশরাফুল আলমের কথা ও সুর-সিলেট বেতারে গেয়েছেন শিল্পী ননী গোপাল তালুকদার
"গোলাতে ধান রাখিয়া আমায় রাখলো পাহারাদার-দিনে রাইতে বস্তা কাটে সয়না অত্যাচার" ওয়াসীমের সুরে গেয়েছেন শিল্পী-মোঃ ওমর ফারুক, নিশি গেল আশার আসে নিদ্রা নাই মোর নয়নে এবং মাথায় নিলাম কলঙ্কের ঢালি প্রাণ বন্দুরে।
এদিকে সুরকার মো.ওয়াসিমের সুরে এবং শিল্পী ওমর ফারুকের কণ্ঠে গানগুলো নতুন মাত্রা পেয়েছে। সহজ-সরল শব্দ চয়ন, লোকজ সুরের আবহ এবং জীবন ঘনিষ্ঠ দর্শনের কারণে গানগুলো ইতোমধ্যে শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
দোতরার সুরে শুরু হয়েছিল পথচলা----
তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণকুল গ্রামে জন্ম আশরাফুল আলমের। বাবা মো. ফজলুল হক ছিলেন সংগীতপ্রেমী মানুষ। অবসরে দোতরা বাজিয়ে লোকগান গাইতেন। সেই সুরের মূর্ছনাই ছোট্ট আশরাফুলের মনে গানের প্রতি গভীর ভালোবাসার বীজ বপন করে।
তাঁর পৈতৃক নিবাস জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা গ্রামে হলেও বাবার ব্যবসার কারণে বেড়ে ওঠা দক্ষিণকুলেই। দক্ষিণকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে বালিজুরি হাজী এলাহি বক্স উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৫ সালে দুই বিষয়ে লেটার মার্কসহ এসএসসি পাস করেন। পরে জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং স্নাতক সম্পন্ন করেন।
সংগ্রামের মাঝেও থামেনি গানের খাতা পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য ২০০৩ সালে ঢাকার একটি সুয়েটার কারখানায় চাকরি নেন আশরাফুল আলম। দীর্ঘ কর্মঘণ্টার ক্লান্তি শেষে যখন অন্যরা বিশ্রাম নিতেন, তখন তিনি ডায়েরি খুলে লিখে যেতেন নতুন নতুন গান। যেন গানই ছিল তাঁর ক্লান্তি ভুলে থাকার একমাত্র আশ্রয়। পরে চাকরি ছেড়ে বাড়ি ফিরে আসেন। ২০০৬ সালে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় যোগ দিলেও ২০১৩ সালে জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক হিসেবে নিয়োগ পান। বর্তমানে তিনি সেখানেই কর্মরত। চাকরির পাশাপাশি আজও সমান নিবেদন নিয়ে লিখে চলেছেন গান।
জীবন দর্শনের ভাষা তাঁর গান আশরাফুল আলমের গানে বারবার ফিরে আসে জীবন, মৃত্যু, প্রেম, বিচ্ছেদ, আত্মশুদ্ধি ও মানুষের অন্তর্জগতের কথা।
বেতারের স্বীকৃতি--
আশরাফুল ২০২৫ সালের ১৩ই এপ্রিল 'গ' বাংলাদেশ বেতারে গীতিকার হিসেবে তালিকা ভূক্ত হন। এবং তার উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে- মাথায় নিলাম কলংকের ঢালি প্রাণবন্দুরে পাগল হইছি তর লাগিয়া, পিরিতের বাজারে গিয়া খাইলাম একি ধরা আমি হইলাম সর্বহারা-এ জগতে আমার মতো নাইরে কপাল পোড়া, আশায় আশায় গেল নিশি বন্দুরে তর লাগিয়া-অন্তরে বিরহের আগুন জ্বলে ঘসিয়া, পুড়তে পুড়তে হইলাম সারা নিভে কি আর জল ঢালিলে-জ্বলছি প্রেমানলে একি ছিল মোর কপালে- শিল্পী-হীরা মোহন তালুকদার।
পিরিত কইরা সুখ হইলনা-কান্দাইলো সারা জীবন,একটা দমের নাই ভরসা, কেন এত বাহাদুরি, ভিক্ষার ঝুলি কান্দে লইয়া রইলাম দাঁড়াইয়া, চাওয়া পাওয়ার বাসনা এ জীবনেও যাবে না, স্বার্থক জীবন হইতোরে বন্ধু আইলে ভাঙা ঘরে, অন্তরে বিরহের আগুন নিভে নারে জল দিলে’ এবং ‘পুড়তে পুড়তে হইলাম সারা, নিভে কি আর জল ঢালিলে গানের প্রতিটি পঙ্ক্তিতে লোকজ জীবনের গন্ধ, দর্শনের গভীরতা এবং হৃদয়ের আবেগ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। ‘গানই আমাকে মানুষ হতে শেখায়’
নিজের গান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আশরাফুল আলম বলেন,"আমি গান লিখি মানুষের জীবনকে বুঝতে। ইহকাল-পরকাল, সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ—সবকিছুই আমার গানের বিষয়। গান আমাকে লোভ, লালসা আর অন্যায় থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে। মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা আর মানবিকতার কথা পৌঁছে দেওয়াই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।"
বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্রের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক (সঙ্গীত) মো. আব্দুল হক বলেন, বেতারের তালিকাভুক্ত গীতিকার হতে হলে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। শত শত গানের মধ্য থেকে মানসম্মত গানই নির্বাচিত হয়। আশরাফুল আলমের গান সেই মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হয়েছে বলেই তাঁর একাধিক গান নিয়মিত বেতারে প্রচারিত হচ্ছে।
সম্প্রতি প্রচারিত গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘গোলাতে ধান রাখিয়া আমায় রাখলো পাহারাদার, নিশি গেল আশার আসে, আসিয়া ভবকুলে শিসা কিনলাম হীরা ফেলে’ এবং ‘মাথায় নিলায় কলঙ্কের ঢালি প্রাণ বন্ধুরে’।
নিভৃতে জ্বলতে থাকা এক আলোর নাম আশরাফুল আলম।
সঙ্গীতের জগতে অনেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হন প্রচার-প্রচারণায়। আবার কেউ কেউ থাকেন নীরব সাধনায়। আশরাফুল আলম সেই দ্বিতীয় ধারার মানুষ। লোকজ ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিক দর্শন এবং মানবজীবনের গভীর অনুভূতিকে তিনি গানে রূপ দিয়ে চলেছেন নিরন্তর। হয়তো তাঁর নাম এখনও সর্বত্র পরিচিত নয়। কিন্তু তাঁর গান বলে দেয়-নিভৃতেও সৃষ্টি হয় অনন্তের সুর। আর সেই সুরই একদিন মানুষের মুখে মুখে বেঁচে থাকবে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
নিভৃতচারী গীতিকারের সুর সাধনা
"আসিয়া ভব কূলে শিশা কিনলাম হীরা ফেলে-
আমার মত কে আর আছে বোকা দোকানদার-
দেহতত্ত্ব আর বিরহ জীবনের দর্শনে আশরাফুল আলমের গানের জগৎ
হাবিবুর রহমানঃ-
গভীর রাত। চারদিকে নিস্তব্ধতা। দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে যখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমে বিভোর, তখন এক মানুষ নিভৃতে বসেন সাদা কাগজ আর কলম নিয়ে। শব্দের পর শব্দ জুড়ে জন্ম নেয় নতুন গান। কখনও দেহতত্ত্ব, কখনও আধ্যাত্মিকতার অন্বেষণ, কখনও প্রেম-বিরহের হাহাকার, আবার কখনও জীবনের কঠিন বাস্তবতা। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে নিজের ভেতরের অনুভূতিকে গানে রূপ দিচ্ছেন সুনামগঞ্জের নিভৃতচারী গীতিকার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম।
প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকলেও তাঁর সৃষ্টির ভাণ্ডার সমৃদ্ধ। ইতোমধ্যে তিনি প্রায় হাজারখানেক গান রচনা করেছেন। সম্প্রতি তাঁর লেখা একাধিক গান বাংলাদেশ বেতার, সিলেট কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হওয়ায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এই গীতিকার।
বেতারে প্রচারিত গানগুলোর মধ্যে ‘গোলাতে ধান রাখিয়া আমায় রাখলো পাহারাদার, দিনে রাইতে বস্তা কাটে সয়না অত্যাচার’ গানটি যেমন মানবজীবনের নশ্বরতা ও আত্মার চিরন্তন সত্যকে রূপকের মাধ্যমে তুলে ধরে, তেমনি ‘নিশি গেল আশার আসে, নিদ্রা নাই মোর নয়নে, কেমনে বাঁচি বন্ধুরে তুই বিহনে’ গানটি বিরহের গভীর আর্তিকে হৃদয়স্পর্শী ভাষায় প্রকাশ করে।
"আসিয়া ভবকূলে শিশা কিনলাম হীরা ফেলে-আমার মত কে আর আছে বোকা দোকানদার,আশরাফুল আলমের কথা ও সুর-সিলেট বেতারে গেয়েছেন শিল্পী ননী গোপাল তালুকদার
"গোলাতে ধান রাখিয়া আমায় রাখলো পাহারাদার-দিনে রাইতে বস্তা কাটে সয়না অত্যাচার" ওয়াসীমের সুরে গেয়েছেন শিল্পী-মোঃ ওমর ফারুক, নিশি গেল আশার আসে নিদ্রা নাই মোর নয়নে এবং মাথায় নিলাম কলঙ্কের ঢালি প্রাণ বন্দুরে।
এদিকে সুরকার মো.ওয়াসিমের সুরে এবং শিল্পী ওমর ফারুকের কণ্ঠে গানগুলো নতুন মাত্রা পেয়েছে। সহজ-সরল শব্দ চয়ন, লোকজ সুরের আবহ এবং জীবন ঘনিষ্ঠ দর্শনের কারণে গানগুলো ইতোমধ্যে শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
দোতরার সুরে শুরু হয়েছিল পথচলা----
তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণকুল গ্রামে জন্ম আশরাফুল আলমের। বাবা মো. ফজলুল হক ছিলেন সংগীতপ্রেমী মানুষ। অবসরে দোতরা বাজিয়ে লোকগান গাইতেন। সেই সুরের মূর্ছনাই ছোট্ট আশরাফুলের মনে গানের প্রতি গভীর ভালোবাসার বীজ বপন করে।
তাঁর পৈতৃক নিবাস জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা গ্রামে হলেও বাবার ব্যবসার কারণে বেড়ে ওঠা দক্ষিণকুলেই। দক্ষিণকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে বালিজুরি হাজী এলাহি বক্স উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৫ সালে দুই বিষয়ে লেটার মার্কসহ এসএসসি পাস করেন। পরে জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং স্নাতক সম্পন্ন করেন।
সংগ্রামের মাঝেও থামেনি গানের খাতা পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য ২০০৩ সালে ঢাকার একটি সুয়েটার কারখানায় চাকরি নেন আশরাফুল আলম। দীর্ঘ কর্মঘণ্টার ক্লান্তি শেষে যখন অন্যরা বিশ্রাম নিতেন, তখন তিনি ডায়েরি খুলে লিখে যেতেন নতুন নতুন গান। যেন গানই ছিল তাঁর ক্লান্তি ভুলে থাকার একমাত্র আশ্রয়। পরে চাকরি ছেড়ে বাড়ি ফিরে আসেন। ২০০৬ সালে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় যোগ দিলেও ২০১৩ সালে জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক হিসেবে নিয়োগ পান। বর্তমানে তিনি সেখানেই কর্মরত। চাকরির পাশাপাশি আজও সমান নিবেদন নিয়ে লিখে চলেছেন গান।
জীবন দর্শনের ভাষা তাঁর গান আশরাফুল আলমের গানে বারবার ফিরে আসে জীবন, মৃত্যু, প্রেম, বিচ্ছেদ, আত্মশুদ্ধি ও মানুষের অন্তর্জগতের কথা।
বেতারের স্বীকৃতি--
আশরাফুল ২০২৫ সালের ১৩ই এপ্রিল 'গ' বাংলাদেশ বেতারে গীতিকার হিসেবে তালিকা ভূক্ত হন। এবং তার উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে- মাথায় নিলাম কলংকের ঢালি প্রাণবন্দুরে পাগল হইছি তর লাগিয়া, পিরিতের বাজারে গিয়া খাইলাম একি ধরা আমি হইলাম সর্বহারা-এ জগতে আমার মতো নাইরে কপাল পোড়া, আশায় আশায় গেল নিশি বন্দুরে তর লাগিয়া-অন্তরে বিরহের আগুন জ্বলে ঘসিয়া, পুড়তে পুড়তে হইলাম সারা নিভে কি আর জল ঢালিলে-জ্বলছি প্রেমানলে একি ছিল মোর কপালে- শিল্পী-হীরা মোহন তালুকদার।
পিরিত কইরা সুখ হইলনা-কান্দাইলো সারা জীবন,একটা দমের নাই ভরসা, কেন এত বাহাদুরি, ভিক্ষার ঝুলি কান্দে লইয়া রইলাম দাঁড়াইয়া, চাওয়া পাওয়ার বাসনা এ জীবনেও যাবে না, স্বার্থক জীবন হইতোরে বন্ধু আইলে ভাঙা ঘরে, অন্তরে বিরহের আগুন নিভে নারে জল দিলে’ এবং ‘পুড়তে পুড়তে হইলাম সারা, নিভে কি আর জল ঢালিলে গানের প্রতিটি পঙ্ক্তিতে লোকজ জীবনের গন্ধ, দর্শনের গভীরতা এবং হৃদয়ের আবেগ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। ‘গানই আমাকে মানুষ হতে শেখায়’
নিজের গান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আশরাফুল আলম বলেন,"আমি গান লিখি মানুষের জীবনকে বুঝতে। ইহকাল-পরকাল, সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ—সবকিছুই আমার গানের বিষয়। গান আমাকে লোভ, লালসা আর অন্যায় থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে। মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা আর মানবিকতার কথা পৌঁছে দেওয়াই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।"
বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্রের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক (সঙ্গীত) মো. আব্দুল হক বলেন, বেতারের তালিকাভুক্ত গীতিকার হতে হলে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। শত শত গানের মধ্য থেকে মানসম্মত গানই নির্বাচিত হয়। আশরাফুল আলমের গান সেই মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হয়েছে বলেই তাঁর একাধিক গান নিয়মিত বেতারে প্রচারিত হচ্ছে।
সম্প্রতি প্রচারিত গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘গোলাতে ধান রাখিয়া আমায় রাখলো পাহারাদার, নিশি গেল আশার আসে, আসিয়া ভবকুলে শিসা কিনলাম হীরা ফেলে’ এবং ‘মাথায় নিলায় কলঙ্কের ঢালি প্রাণ বন্ধুরে’।
নিভৃতে জ্বলতে থাকা এক আলোর নাম আশরাফুল আলম।
সঙ্গীতের জগতে অনেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হন প্রচার-প্রচারণায়। আবার কেউ কেউ থাকেন নীরব সাধনায়। আশরাফুল আলম সেই দ্বিতীয় ধারার মানুষ। লোকজ ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিক দর্শন এবং মানবজীবনের গভীর অনুভূতিকে তিনি গানে রূপ দিয়ে চলেছেন নিরন্তর। হয়তো তাঁর নাম এখনও সর্বত্র পরিচিত নয়। কিন্তু তাঁর গান বলে দেয়-নিভৃতেও সৃষ্টি হয় অনন্তের সুর। আর সেই সুরই একদিন মানুষের মুখে মুখে বেঁচে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন