স্টাফ রিপোর্টার
জামালগঞ্জে সুরমা নদীর লালপুর বিআইডব্লিউটিএর ইজারাদারদের বিরুদ্ধে সরকারি নির্ধারিত হারকে তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নৌযান শ্রমিকরা।
রবিবার দুপুরে জামালগঞ্জ উত্তর স্টিলবডি নৌকা শ্রমিক সমবায় সমিতি লিমিটেড ও সাধারণ নৌযান শ্রমিকদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে মানববন্ধনে করেন শ্রমিকরা।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার বাল্কহেড শ্রমিক ইউনিয়নের সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান হাবিব, জামালগঞ্জ উত্তর স্টিলবডি নৌকা শ্রমিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক মো. কবির আহমদ, নৌকা মালিক আবুল হোসেনসহ নৌযান শ্রমিকরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, জামালগঞ্জ অংশে বিআইডব্লিউটিএর ইজারাদাররা সরকারি নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টোল আদায় করছেন। এতে নৌযান শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
শ্রমিকরা প্রশাসনের কাছে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে সরকারি নির্ধারিত হারে টোল আদায় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা। সমাবেশ থেকে আগামী তিন দিনের মধ্যে অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন বন্ধ না হলে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাজার হাজার শ্রমিকের পেটে আঘাত না করে ইজারাদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিন। ক্রাশার মিলে জরিমানা করায় আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু ইজারাদারদের বিরুদ্ধে আপনার কোনো আইনি পদক্ষেপ নেই কেন? তাহলে কি আমরা ধরে নেব, আপনি তাদের কাছে ম্যানেজ হয়েছেন? তারা আরও বলেন, মনে রাখবেন, শ্রমিকের পেটে আঘাত করে কেউ কোনোদিন টিকে থাকতে পারে না।
লালপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন শ্রমিকরা। শ্রমিকরা বলেন, আপনাদের চোখের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে বিআইডব্লিউটিএর নামে চাঁদাবাজি হয়। চাঁদাবাজি বন্ধ না করে উল্টো নৌ-শ্রমিকদের হয়রানি করেন। কাগজের অজুহাত দেখিয়ে চাঁদাবাজদের পক্ষ নিয়ে মামলার ভয়ভীতি দেখান। আজকের পর থেকে আমরা নৌপথে আর কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করব না।
শ্রমিকদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিআইডব্লিউটিএর ইজারাদার ওয়াহেদ আলী বলেন, আমি নির্দেশনা অনুযায়ী টাকা আদায় করছি। অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়া হচ্ছে না। আমার নামে চাঁদাবাজির যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা মিথ্যা।
আরেক অংশের ইজারাদার জিয়াউর রহমান বলেন, আমি অতিরিক্ত কোনো টাকা আদায় করি না। তাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
লালপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সজল কুমার কানু বলেন, বিআইডব্লিউটিএর টোল-ট্যাক্সের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব আমার নয়। তারপরও ইজারাদাররা যদি অতিরিক্ত টাকা আদায় করে থাকেন, তাহলে অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী মোদক বলেন, আমি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মিটিংয়ে আছি। আজকের বিষয়টি এখনো অবগত হইনি।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার
জামালগঞ্জে সুরমা নদীর লালপুর বিআইডব্লিউটিএর ইজারাদারদের বিরুদ্ধে সরকারি নির্ধারিত হারকে তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নৌযান শ্রমিকরা।
রবিবার দুপুরে জামালগঞ্জ উত্তর স্টিলবডি নৌকা শ্রমিক সমবায় সমিতি লিমিটেড ও সাধারণ নৌযান শ্রমিকদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে মানববন্ধনে করেন শ্রমিকরা।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার বাল্কহেড শ্রমিক ইউনিয়নের সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান হাবিব, জামালগঞ্জ উত্তর স্টিলবডি নৌকা শ্রমিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক মো. কবির আহমদ, নৌকা মালিক আবুল হোসেনসহ নৌযান শ্রমিকরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, জামালগঞ্জ অংশে বিআইডব্লিউটিএর ইজারাদাররা সরকারি নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টোল আদায় করছেন। এতে নৌযান শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
শ্রমিকরা প্রশাসনের কাছে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে সরকারি নির্ধারিত হারে টোল আদায় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা। সমাবেশ থেকে আগামী তিন দিনের মধ্যে অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন বন্ধ না হলে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাজার হাজার শ্রমিকের পেটে আঘাত না করে ইজারাদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিন। ক্রাশার মিলে জরিমানা করায় আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু ইজারাদারদের বিরুদ্ধে আপনার কোনো আইনি পদক্ষেপ নেই কেন? তাহলে কি আমরা ধরে নেব, আপনি তাদের কাছে ম্যানেজ হয়েছেন? তারা আরও বলেন, মনে রাখবেন, শ্রমিকের পেটে আঘাত করে কেউ কোনোদিন টিকে থাকতে পারে না।
লালপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন শ্রমিকরা। শ্রমিকরা বলেন, আপনাদের চোখের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে বিআইডব্লিউটিএর নামে চাঁদাবাজি হয়। চাঁদাবাজি বন্ধ না করে উল্টো নৌ-শ্রমিকদের হয়রানি করেন। কাগজের অজুহাত দেখিয়ে চাঁদাবাজদের পক্ষ নিয়ে মামলার ভয়ভীতি দেখান। আজকের পর থেকে আমরা নৌপথে আর কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করব না।
শ্রমিকদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিআইডব্লিউটিএর ইজারাদার ওয়াহেদ আলী বলেন, আমি নির্দেশনা অনুযায়ী টাকা আদায় করছি। অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়া হচ্ছে না। আমার নামে চাঁদাবাজির যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা মিথ্যা।
আরেক অংশের ইজারাদার জিয়াউর রহমান বলেন, আমি অতিরিক্ত কোনো টাকা আদায় করি না। তাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
লালপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সজল কুমার কানু বলেন, বিআইডব্লিউটিএর টোল-ট্যাক্সের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব আমার নয়। তারপরও ইজারাদাররা যদি অতিরিক্ত টাকা আদায় করে থাকেন, তাহলে অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী মোদক বলেন, আমি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মিটিংয়ে আছি। আজকের বিষয়টি এখনো অবগত হইনি।

আপনার মতামত লিখুন