রক্তি নিউজ

সারাদেশ

ভৈরবে পুলিশের অভিযানে ২৬ মামলার আসামিসহ ২৯ জন গ্রেপ্তার

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
ভৈরবে পুলিশের অভিযানে ২৬ মামলার আসামিসহ ২৯ জন গ্রেপ্তার

জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব প্রতিনিধি ॥

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে  রাতভর পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে একাধিক ছিনতাইকারী, ভবঘুরে কিশোর গ্যাং সদস্য ও ২৬ মামলার আসামিসহ ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। এদের মধ্যে ১৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার রাত ১২টা থেকে ভোর পর্যন্ত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে শহরের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকা থেকে তাদের  গ্রেপ্তার করা হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এর আগে ১৫ জুন ও ১৩ আগস্ট সাঁড়াশি অভিযানে একাধিক ছিনতাইকারী ও ভবঘুরে কিশোর গ্যাং সদস্যসহ ৯২ জনকে আটক করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ২৫ জনকে কারাগারে প্রেরণ করে বাকিদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। ধারারবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার মধ্যরাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ২৯ জনকে আটক করা হয়।

১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। এ সময় ১৮ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে উপস্থিত করা হয়। উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৮ জন আসামি তাদের দোষ স্বীকার করে নেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদেরকে মাদক সেবন, বিক্রি ও বহনের অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন।

এ বিষয়ে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ভৈরব ছিনতাই, চুরি, ডাকাতিসহ মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। একাধিকবার ভৈরবের অভিভাবকদের সচেতন করা হয়েছে, তাদের সন্তানরা যেন রাত ১২টার পর প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যায়। এর আগেও সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ভৈরবের বেশ কয়েকটি ঘটনা নিয়ে সারাদেশে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভৈরবের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। সন্তানদের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আটকের খবরে সন্তানদের ছাড়িয়ে নিতে থানা চত্বরে অভিভাবকেরা ভিড় করেন। এ সময় অভিভাবকদের উদ্দেশে সচেতনতামূলক ও সতর্কতামূলক বক্তব্য দিয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ বলেন, রাত ১২টার পর গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে থাকা যাবে না। এর আগে দু’দফায় ৯২ জনকে আটকের পর মূল আসামি রেখে বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এখন থেকে থানায় আসলে আর ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের বলেন, ২৬ মামলার আসামি সোহাগ মিয়া (৩২) ও ৪ মামলার আসামি হাসান মিয়া (২৩)সহ ২৯ জনকে আটক করা হয়। রাতভর বিশেষ অভিযানে আটককৃতদের মধ্যে নিয়মিত মাদক মামলায় ১ জন, ডাকাতির প্রস্তুতি মামলায় ২ জন, জিআর/সিআর পরোয়ানাভুক্ত ৪ জন ও সন্দেহভাজন ৪ জনসহ বিভিন্ন মামলায় ১৮ জন রয়েছে। তাদের মধ্যে অনলাইন জুয়া, মাদক সেবন ও মাদক রাখার অপরাধীর সংখ্যা বেশি। আটককৃতদের মধ্যে ১৮ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

রক্তি নিউজ

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ভৈরবে পুলিশের অভিযানে ২৬ মামলার আসামিসহ ২৯ জন গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব প্রতিনিধি ॥

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে  রাতভর পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে একাধিক ছিনতাইকারী, ভবঘুরে কিশোর গ্যাং সদস্য ও ২৬ মামলার আসামিসহ ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। এদের মধ্যে ১৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার রাত ১২টা থেকে ভোর পর্যন্ত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে শহরের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকা থেকে তাদের  গ্রেপ্তার করা হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এর আগে ১৫ জুন ও ১৩ আগস্ট সাঁড়াশি অভিযানে একাধিক ছিনতাইকারী ও ভবঘুরে কিশোর গ্যাং সদস্যসহ ৯২ জনকে আটক করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ২৫ জনকে কারাগারে প্রেরণ করে বাকিদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। ধারারবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার মধ্যরাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ২৯ জনকে আটক করা হয়।

১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। এ সময় ১৮ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে উপস্থিত করা হয়। উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৮ জন আসামি তাদের দোষ স্বীকার করে নেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদেরকে মাদক সেবন, বিক্রি ও বহনের অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন।

এ বিষয়ে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ভৈরব ছিনতাই, চুরি, ডাকাতিসহ মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। একাধিকবার ভৈরবের অভিভাবকদের সচেতন করা হয়েছে, তাদের সন্তানরা যেন রাত ১২টার পর প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যায়। এর আগেও সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ভৈরবের বেশ কয়েকটি ঘটনা নিয়ে সারাদেশে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভৈরবের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। সন্তানদের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আটকের খবরে সন্তানদের ছাড়িয়ে নিতে থানা চত্বরে অভিভাবকেরা ভিড় করেন। এ সময় অভিভাবকদের উদ্দেশে সচেতনতামূলক ও সতর্কতামূলক বক্তব্য দিয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ বলেন, রাত ১২টার পর গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে থাকা যাবে না। এর আগে দু’দফায় ৯২ জনকে আটকের পর মূল আসামি রেখে বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এখন থেকে থানায় আসলে আর ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের বলেন, ২৬ মামলার আসামি সোহাগ মিয়া (৩২) ও ৪ মামলার আসামি হাসান মিয়া (২৩)সহ ২৯ জনকে আটক করা হয়। রাতভর বিশেষ অভিযানে আটককৃতদের মধ্যে নিয়মিত মাদক মামলায় ১ জন, ডাকাতির প্রস্তুতি মামলায় ২ জন, জিআর/সিআর পরোয়ানাভুক্ত ৪ জন ও সন্দেহভাজন ৪ জনসহ বিভিন্ন মামলায় ১৮ জন রয়েছে। তাদের মধ্যে অনলাইন জুয়া, মাদক সেবন ও মাদক রাখার অপরাধীর সংখ্যা বেশি। আটককৃতদের মধ্যে ১৮ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।


রক্তি নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. হাবিবুর রহমান।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত রক্তি নিউজ